দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনায় ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া এক কন্যাশিশু দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। একই রায়ে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বারহাট্টা উপজেলার নিজ বাড়িতে তালাকপ্রাপ্ত এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত হেলাল ধর্ষণের অভিযোগ এবং অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন।
ওই বছরের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ১১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরবর্তীতে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল।
মামলা চলাকালে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুর জৈবিক পিতা হিসেবে হেলালের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
মামলার এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মারা যান। এরপর আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তার কন্যা দীর্ঘদিন ধরে আদালতে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
রায়ের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ায় আদালত তাকে আসামির আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ফলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সে পিতার সম্পত্তিসহ অন্যান্য আইনগত অধিকার ভোগ করতে পারবে।
তিনি বলেন, আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
পাবলিক প্রসিকিউটরের ভাষ্য, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু ধর্ষকের শাস্তিই নিশ্চিত হয়নি, একই সঙ্গে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনগত অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
যে আই